লোডশেডিংয়ে ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত, সেপ্টেম্বরেই উন্নতির আশা
দীর্ঘ লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের ঘাটতিতে অতিষ্ঠ দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে চলমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন সাবেক সরকারের টানা ১৫ বছরের ভুল ও অপরিকল্পিত জ্বালানি নীতি।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো লুকোছাপা করার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে সাধারণ মানুষ যে দুর্ভোগে ভুগছেন, তার জন্য তিনি নিজের মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতির কাছে ক্ষমা চান। তবে তাঁর ভাষায়, এই সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি; দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের অনিবার্য ফলই আজ জনগণকে স্বীকার করতে হচ্ছে। তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা চালু রাখতে প্রতিদিন প্রয়োজন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি একসঙ্গে করেও সেই চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়েই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ইউনিট বন্ধ পড়ে আছে, আর মাতারবাড়ী কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ এখন দিনে ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এর ওপর গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ায় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় ভাঙন ধরে; মেরামত শেষে গত ১৫ আগস্ট তা আবার চালু করা হয়।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, গ্যাসের ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাবেক সরকার এসব কেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার, যাতে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন অব্যাহত থাকে। প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যাশা, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যাবে।

