পাহাড়ে গুজব আর উসকানিতে জাতিগত সংঘাতের ছক, আন্তর্জাতিক মহলে মিথ্যার বন্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বিনষ্ট করতে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে সশস্ত্র সংগঠনগুলো। নারী ও শিশুদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে খবর পাওয়া গেছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে খাগড়াছড়ি ও গুইমারা এলাকায় যা ঘটেছিল তার পেছনেও একই ষড়যন্ত্র ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সেনাবাহিনী অভিযুক্ত শয়ন শীলকে গ্রেফতার করলেও ইউপিডিএফ ও তার অঙ্গসংগঠন পিসিপির নেতা উখ্যানু মারমা প্রতিবাদের নামে বিক্ষোভের ডাক দেন। এরপরই অনলাইনে বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর এই উসকানির ফলে টহলরত সেনাবাহিনীর ওপর হামলা হয়, যাতে তিন সেনা সদস্য আহত হন। পরের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা জাতিগত দাঙ্গায় রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয় বাঙালি ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি ও ভাঙচুর চালানো হলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যমতে, একটি চক্র বিদেশি অনুদান ব্যবহার করে এমন ডকুমেন্টারি তৈরি করছে যা পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালায়। এটি মূলত দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক ধারণা ছড়ানোর কৌশল। এই মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ফের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

