আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ: ফার্স্ট হতে না পেরে সাহিত্যে মন দিলেন
কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হকের কন্যা পদ্ম পারমিতার প্রথম ইংরেজি গ্রন্থ প্রকাশ পেতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম নামকরা প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস থেকে। এই উপলক্ষে আবেগময় একটি পোস্ট লিখেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন এই জনপ্রিয় লেখক।
রংপুর জিলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার কথা স্মরণ করে আনিসুল হক জানান, তাঁর ভাইবোনেরা সবসময় ক্লাসে প্রথম হতেন। কিন্তু তিনি সাধারণত তৃতীয় স্থান অধিকার করতেন। এই আত্মীয় চাপ তিনি কাটিয়ে উঠতে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চায় মন দেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতেই একটি হাতে লেখা পত্রিকা ও দেয়াল পত্রিকা তৈরি করেন। স্কুলে বিতর্ক, বক্তৃতা ও আবৃত্তিতে অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতেন তিনি। অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে ডেকে পাঠান। নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে উঠার সময়ও তিনি প্রথম হন।
স্কুলের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর কথা উল্লেখ করেন আনিসুল হক। স্কুলে দুটি বিশাল বটগাছের নিচে সব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বাংলা ভাষা নিয়ে একটি অনন্য অনুষ্ঠানের কথা তিনি আজও স্মরণ করেন। সেই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বুকে উপসর্গ ও বর্ণ লিখে ভাষার গঠনপ্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা হয়েছিল। ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করলেও সিরাজ স্যারের সেই উদ্ভাবনী কৌশলের মতো কল্পনা তিনি আর কোথাও দেখেননি বলে জানান তিনি।

