কোমরসমান পানিতে উত্তর চট্টগ্রাম, অচল যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা
টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উত্তর চট্টগ্রামের জনজীবন এখন সম্পূর্ণ অচল। নগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। এর প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমসহ সরকারি অফিসগুলোর সেবা প্রদান।
হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও খাগড়াছড়ির মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেই বড়দিঘির পাড় ও চিকনদণ্ডী এলাকায় পানি জমাট বেঁধে অকেজো হয়ে পড়ে। শত শত বাস, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং শাটল ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল দখলের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এমন দুর্যোগ পৌঁছাচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুইদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সাইফুল ইসলাম মনে করেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি পুরো এলাকা তলিয়ে যায়, তবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।

