বন্দি বিনিময়ের চাপে পাকিস্তানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৬ মার্চ ২০২৬ ১:৫৮ পিএম
বন্দি বিনিময়ের চাপে পাকিস্তানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ

১৯৭৪ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি লাহোর বিমানবন্দরে এক ঐতিহাসিক দৃশ্য অবতীর্ণ হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকার পর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সফরে যান এবং সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে লাহোরে পৌঁছালে শেখ মুজিবকে ২১টি তোপধ্বনি ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে লাউড স্পিকারে বাজানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা। এর আগের দিন অর্থাৎ ২২শে ফেব্রুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই ভুট্টো এ বিষয়ে ছিলেন একগুঁয়ে। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে তিনি পাকিস্তানকে কমনওয়েলথ থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে মাত্র দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতির বদল ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতে আটকা পড়া ৯০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি এবং পাকিস্তানে আটকে পড়া প্রায় চার লাখ বাংলাদেশির ভাগ্য নির্ভর করছিল দুই দেশের সম্পর্কের ওপর। সিমলা ও দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় তা ধীরগতিতে এগুচ্ছিল।

যুদ্ধবন্দিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহল থেকে ভুট্টোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মুসলিম বিশ্বের নেতাদের পরামর্শ ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রয়োজন তাকে নমনীয় হতে বাধ্য করে। ফলে ১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে ভুট্টো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন এবং বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে আমন্ত্রণ জানান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের স্বীকৃতি ও বঙ্গবন্ধুর এই সফর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...