ভোটারদের কেন্দ্রে আসা বন্ধে ছড়ানো হতে পারে টাকা: ইসিকে মাঠ প্রশাসন-পুলিশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসন, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন–এর নেতৃত্বে কমিশন কর্মকর্তারা নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক ও মডেল নির্বাচন’ হিসেবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় আটজন বিভাগীয় কমিশনার, আটজন ডিআইজি, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক, ৬৪ জন পুলিশ সুপার, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ২২৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। আলোচনায় বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলের অন্তর্কোন্দল, বৈধ অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ভোটের আগে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন, ভোটারদের কেন্দ্রে না আসতে প্ররোচনার অপচেষ্টা এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইসি স্পষ্ট করে জানায়, যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইন মেনে দায়িত্ব পালন করলে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ সব সময় কমিশনের পূর্ণ সমর্থন পাবে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে অপরাধীদের জামিন দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কমিশনাররাও জামিন ইস্যুতে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার সংঘাতপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান জোরদারের প্রস্তাব দেন এবং সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারির তাগিদ দেওয়া হয়।
গুজব, অপতথ্য ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার জানান, এসব ঠেকাতে বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় চলছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, অতিরঞ্জিত নেতিবাচক প্রচার ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, যা একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চায়।
সভায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, অতীতে যারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত ছিল, তারা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আড়ালে বা ‘কভারে’ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এটি নির্বাচনকালীন একটি বড় প্রতিকূলতা হিসেবে দেখছেন তারা। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় গণনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি ঝুঁকি থাকবে, তবে সব বাধা অতিক্রম করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মতবিনিময় সভায় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, কোনো পক্ষের প্রভাব ছাড়াই আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা হবে। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন কর্মকর্তাদের এই দৃঢ় অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই প্রতিশ্রুতি কমিশনের ‘বুকের জোর’ বাড়িয়েছে।

