মানবিকতার অনন্য উচ্চতায় ডা. কামরুল
বিনা পারিশ্রমিকে ২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড
বিদেশের ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভিড়ে দেশের গরিব মানুষের ভরসাস্থল হয়ে ওঠা এক নাম অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে ২ হাজারতম সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক।
সার্জন ফি ছাড়াই অস্ত্রোপচার বর্তমান সময়ে যেখানে কিডনি প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সেখানে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে কোনো ‘সার্জন ফি’ ছাড়াই এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর কাছ থেকে কেবল ওষুধ, অ্যানেস্থেশিয়া ও ল্যাব টেস্টের মতো আনুষঙ্গিক খরচ নেওয়া হয়, যার পরিমাণ মাত্র ২ লাখ টাকার মতো। এছাড়া অস্ত্রোপচার পরবর্তী ফলোআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো অতিরিক্ত খরচ নেওয়া হয় না।
সাফল্যের হার ও পরিসংখ্যান ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু করা এই গুণী চিকিৎসকের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে, তার প্রায় ৫০ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে প্রচারবিমুখ এই চিকিৎসকের একক নেতৃত্বে। বর্তমানে তিনি প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচটি করে কিডনি প্রতিস্থাপন করছেন।
ডা. কামরুল ইসলামের ভাষ্য দুই হাজার অস্ত্রোপচারের মাইলফলক স্পর্শ করলেও ডা. কামরুল ইসলাম ছিলেন নির্ভার। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয়, বরং সেবার মান বজায় রেখে যত বেশি সম্ভব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা। দেশের গরিব রোগীদের জন্য আরও বড় পরিসরে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
এক নজরে ডা. কামরুল ইসলাম ১৯৬৫ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে জন্ম নেওয়া এই কৃতি সন্তান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে স্বর্ণপদকসহ এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি এফসিপিএস, এমএস (ইউরোলজি) এবং ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি লাভ করেন। মানবিক চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০২২ সালে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন রোগী এই রোগে মারা যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ডা. কামরুল ইসলামের এই নিঃস্বার্থ সেবা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

