ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিল কমানোর চমক, বিশেষজ্ঞদের মতে নিছকই প্রতারণা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২৩ পিএম
ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিল কমানোর চমক, বিশেষজ্ঞদের মতে নিছকই প্রতারণা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরেফিরছে চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপন—’স্মার্ট উপায়ে বিদ্যুৎ বিল কমান’, ‘যেকোনো সকেটে লাগালেই খরচ কমবে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ’। ইংরেজি ও বাংলায় এমন প্রলুব্ধকর প্রচার চালাচ্ছে প্রতারক ব্যবসায়ীদের একটি চক্র, যারা তথাকথিত ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইসের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রেক্ষাপটটা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। সরকারিভাবে বিদ্যুতের দাম বারবার বাড়ার পাশাপাশি ইউনিটপ্রতি স্ল্যাব ব্যবস্থার কারণে মাস শেষে বিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আসছে বলে অভিযোগ উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। গত কয়েক মাসে অতিরিক্ত বিলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা, আর ঠিক এই সংকটের সুযোছেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারকদের বাণিজ্য। রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা নুরুল আলম, যিনি ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে ভালো ধারণা রাখেন, জানান তার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে এসব বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়েছেন। গত দুই-তিন দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে হরেক নামে এমন অনলাইন পেজ ও শপ তুমুল সক্রিয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ আলাদা ছবি এঁকে দেয়। বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা খাতের বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য বলছে—সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস নিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তার সুযোগ নিয়ে এই চক্র সক্রিয় থাকায় ভোক্তাদের আগে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। না বুঝে এসব পণ্য কিনতে গিয়ে শুধু টাকা নয়, ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ারে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক প্রচারণা বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের দাবিও উঠছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...