বিদ্যুৎ বিল কমবে ৩৫ শতাংশ? ফেসবুকের পাওয়ার সেভারে প্রতারণার ফাঁদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে ‘স্মার্ট উপায়ে বিদ্যুৎ বিল কমান’, ‘খরচ কমবে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ’, ‘যেকোনো সকেটে লাগালেই সাশ্রয়’—জাতীয় চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন। ইংরেজি ও বাংলায় ছড়িয়ে পড়া এসব প্রলুব্ধকর প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতারক ব্যবসায়ী চক্র। তারা বিভিন্ন নামে ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস বিক্রির আশ্বাস দিলেও বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
প্রেক্ষাপটে রয়েছে বিদ্যুতের দাম সরকারিভাবে বৃদ্ধি এবং ইউনিটপ্রতি বিভিন্ন স্ল্যাবের কারণে মাস শেষে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ। গত কয়েক মাস ধরে বিল তুলনামূলক বেশি আসায় উদ্বিগ্ন সাধারণ গ্রাহকেরা সাশ্রয়ের এমন প্রস্তাব দেখে না বুঝেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা নুরুল আলম, যিনি ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে ভালো পড়াশোনা করেছেন, জানান—তার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে দেখা এসব বিজ্ঞাপন নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন।
গত দুই-তিন দিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভেসে উঠছে হরেক নামে অনলাইন পেজ ও শপের প্রচার। এসব পেজে চোখধাঁধানো ছবি ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহক ধরা পড়ার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য বলছে, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এসব যন্ত্রের নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইসের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।
সচেতন মহলের পরামর্শ, বিজ্ঞাপনের চমকে বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ ব্যয় না করে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষ ও বৈজ্ঞানিক অভ্যাসে জোর দেওয়া উচিত। এমন সন্দেহজনক পেজে লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

