দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েও নির্বাচনে হারলেন যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় পরিচয় গুটিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে লড়ার আশায় যারা রাজনৈতিক দল বদল করেছিলেন, ভোটের মাঠে তাদের অধিকাংশেরই ভাগ্যে জয় লেখা হয়নি। নিজেদের দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধী জোটের প্রধান শক্তিতে পরিণত হলেও সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী ছোট দলগুলোর নিজস্ব প্রতীকে লড়ার বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকেই নিজ দল ভেঙে বিএনপিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তবে এই কৌশল তাদের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি পরাজিত হন। ওই আসনে হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট।
একই পরিণতি ঘটেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদের ক্ষেত্রেও। ২৪ ডিসেম্বর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসনে লড়েছিলেন। পাঁচবারের এই সাবেক সংসদ সদস্য বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে। শাওন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও রেদোয়ান আহমেদ দাঁড় করাতে পেরেছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান ২৭ ডিসেম্বর দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। আবু তালেব ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, অন্যদিকে রাশেদ খান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

