ঘরে বসেই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সনদ, মাইগভে খুলে গেল ১৮৫টি ফর্ম
দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাইগভে চলে এসেছে। ফলে অফিসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে নয়, ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফি পরিশোধ করা যাবে এবং কিউআর কোডসহ সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এই রূপান্তরের পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছে সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর। পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আর সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আইসিটি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবা নিতে হলে আবেদনকারীকে সশরীরে কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হতো, ফি দিতে হতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। একটি সনদের জন্য বারবার যাতায়াতে লাগত বাড়তি সময় ও অর্থ। এই ভোগান্তি কমাতে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি সেবা দিয়ে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। পাইলট সফল হওয়ার পর বাকি ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবাও অনলাইনে আনা হয়।
চলতি বছরের মার্চে সংশ্লিষ্ট ১৪টি বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত তিনটি সেবা বিশ্লেষণ কর্মশালায় ৬৩ ধরনের সেবা পর্যালোচনা করে ডিজিটালাইজেশনের জন্য বেছে নেওয়া হয় ১৯টি মৌলিক সেবা এবং তৈরি করা হয় ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম। এরপর জুন ও জুলাইয়ে সাতটি আঞ্চলিক যাচাই কর্মশালায় ফর্ম, সেবাফি, কার্যপ্রবাহ ও টেমপ্লেট চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারসহ মোট ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বর্তমানে ১৯টি মৌলিক সেবার বিপরীতে তৈরি ১৮৫টি ফর্ম সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। নাগরিকরা আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, সেবা নিয়ে মতামতও জানাতে পারবেন। একই প্ল্যাটফর্মে বোর্ডগুলো আবেদন গ্রহণ থেকে যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত সব ধাপ সম্পন্ন করতে পারবে। এতে কাগজনির্ভরতা কমবে, দাপ্তরিক কাজে আসবে গতি, আর বাড়বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—সরকারের সেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় এমন প্রত্যাশাই করা হচ্ছে।

