পাঁচ অপ্রমাণিত অভিযোগেও ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। শুধু প্রমাণিত তিনটি অভিযোগ নয়, ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ না মেলা পাঁচটি অভিযোগেও তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই শীর্ষ জাসদ নেতাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রতিটি অভিযোগে আলাদা আলাদা ১০ বছর করে শাস্তি দেওয়া হলেও রায়ে জানানো হয়, সবগুলো দণ্ড যুগপতভাবে চলবে। ফলে তার মোট কারাদণ্ড কার্যত দাঁড়ায় ১০ বছর।
প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ৩ নম্বর অভিযোগে ছিল আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে তাদের আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার কথা। ৬ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। আর ৭ নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা বলা হয়। শেষোক্ত দুটি অভিযোগে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণও পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রমাণ না মেলা পাঁচটি অভিযোগের একটিতে ছিল ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগে উসকানি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ। আরেকটিতে ছিল ১৯ জুলাই গণভবনের বৈঠকে উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে শুট অ্যাট সাইট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগ। এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত বলে মেনে নেননি। তবু এখন মামলার সব অভিযোগেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল আবেদন করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আপিলের চূড়ান্ত রায়েই এই জাসদ নেতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

