কাগজে সারের মজুত, মাঠে হাহাকার: সংসদে অভিযোগ শফিকুলের

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২২ এএম
কাগজে সারের মজুত, মাঠে হাহাকার: সংসদে অভিযোগ শফিকুলের

বোরো মৌসুম ঘিরে দেশের কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোর স্বচ্ছ ব্যবস্থা না থাকলে বড় বিপদ আসন্ন—এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দলিলপত্রে যতই সারের বিপুল মজুতের কথা বলা হোক, ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে তা বাস্তবে কৃষকের কোমরে পৌঁছাচ্ছে না। ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলে ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য জানান, ন্যায্যমূল্যের অতিরিক্ত দাম দিয়েও কৃষকের হাতে সার পৌঁছাচ্ছে না। জয়পুরহাটে প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কোথাও কোথাও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত চাহিদা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ, অথচ সংকটের মধ্যেও কোথাও কোথাও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউন ভর্তি। বর্তমান অবস্থা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল—তা আবার ঘটতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় অনিয়মের প্রসঙ্গ এনে তিনি জানান, তার এলাকায় জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তালিকা পাশ কাটিয়ে ভেতরের একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে। অনেক ডিলার নিজের নামে বা স্ত্রী, ছেলে ও স্বজনদের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা না করে কেবল কমিশন আদায় করছেন এবং কোটি টাকার চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের কৃষক পরিচয় স্মরণ করে তিনি বলেন, ধান কেটেছেন, কলাই তুলেছেন, বাবার সঙ্গে আগাছা পরিষ্কার করেছেন—সেই দরদ থেকেই আজ সংসদে কথা বলছেন; চাইলে এমপি পদ ছেড়ে কৃষকের সঙ্গে ক্ষেতে নেমেও নিজেকে স্বচ্ছন্দ মনে করতেন।

সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২ হাজার ১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে, আবার কোথাও কৃষকরা গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে—যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে স্থানীয় মানুষের কাছে শুনেছেন, প্রভাবশালী চক্র ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভর্তুকির টাকার বদলে দেশে ফিরছে বিষ জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, বোরো মৌসুমের আগে ডিলার পর্যায়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...