কাগজে-কলমে সারের মজুত, মাঠে কৃষকের হাহাকার: সংসদে সরব শফিকুল

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৩৩ এএম
কাগজে-কলমে সারের মজুত, মাঠে কৃষকের হাহাকার: সংসদে সরব শফিকুল

সরকারিভাবে যতই সারের পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হোক, বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা ভুগছেন ভয়াবহ সংকটে বলে জাতীয় সংসদে সরব হয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। তাঁর আক্ষেপ, সঠিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণেই কাগজের হিসাব আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিরাট ফারাক। বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ডিলার পর্যায়ে কড়া তদারকি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই সদস্য একাধিক জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও সার মিলছে না কৃষকদের হাতে। জয়পুরহাটে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কোথাও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায়ের খবর প্রকাশ পেয়েছে। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ থাকার সংবাদও তিনি উল্লেখ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সিনড্রোমের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, যখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল, সেই অমানবিক অভিজ্ঞতা যেন আর ফিরে না আসে।

ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চলমান কারসাজির বিষয়েও জোরালো অভিযোগ তোলেন এই সংসদ সদস্য। প্রশাসনের তালিকা পাশ কাটিয়ে ভেতরের একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ডিলারশিপের লেনদেন করছে বলে তিনি জানান। এছাড়া নিজের, স্ত্রী, ছেলে বা স্বজনদের নামে একাধিক ডিলারশিপ জমিয়ে রেখে অনেকে আসল ব্যবসা না করেই কেবল কমিশন ও কোটি টাকার চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজেকে কৃষক বলে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, ধান কেটেছেন, কলাই তুলেছেন, বাবার সঙ্গে আগাছা পরিষ্কার করেছেন; সেই দরদ থেকেই কৃষকের জন্য সংসদে কথা বলা তাঁর কাছে কেবল কথার অংশ নয়, বরং একটি দায়িত্ব।

সীমান্ত এলাকায় সার পাচারের চিন্তাজনক চিত্রও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে ২ হাজার ১৫০ কেজি অবৈধ মজুত সার জব্দ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সারের অভাবে কৃষকরা গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। উখিয়া ও টেকনাফ গিয়ে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, প্রভাবশালী চক্র ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভর্তুকির বদলে দেশে ফিরছে বিষ বলে মন্তব্য করে তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...