জুলাই বিপ্লবের সাহিত্য: ডাকসুর ২৯ গল্প ও ৯ উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন
জুলাই বিপ্লবের ঘটনা, আবেগ ও মানুষের অভিজ্ঞতা ঘিরে রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্য থেকে বাছাই করা ২৯টি গল্পের স্মারক গ্রন্থ এবং ৯টি উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত এই রচনাগুলোর আবরণ খোলা হয় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ডাকসু সভাকক্ষে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, আর বিশেষ অতিথির ভূমিকায় ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহা. মহিউদ্দীন খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত গল্প সংকলনটির নাম ‘মহাকালের মর্সিয়া’। এছাড়া পৃথকভাবে প্রকাশিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে — রক্তে লেখা জুলাই, জনতার অভ্যুত্থান, শ্রাবণের কান্না, ধূসর কৃষ্ণচূড়া, ব্যারিকেডের ওপারে, রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া, রক্তে ভেজা জুলাই, লস্করহাট, লাল জুলাইয়ের দিনগুলো ও ইলিশ ফাইল।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, জাতীয় ‘জুলাই গল্প ও উপন্যাস’ প্রতিযোগিতায় প্রায় এক হাজার রচনা জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করা ২৯টি গল্প নিয়ে সংকলন এবং ৯টি উপন্যাস প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাঁর ভাষায়, এরই মধ্যে ৮টি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে এবং শিগগিরই বইগুলো শিক্ষার্থী ও পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, এই গল্প ও উপন্যাসগুলো ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস ও সমাজ-বাস্তবতা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে। নতুন প্রজন্মের লেখকদের ধারাবাহিক সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার নিজস্ব সাহিত্যধারা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি মনে করেন।
মুহা. মহিউদ্দীন খান বলেন, জুলাইকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনের চশমা দিয়ে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য ধরা পড়বে না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও অধিকার আদায়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে ওঠা এক অভ্যুত্থান। মাঠে থাকা লেখকদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এই রচনাগুলো সাহিত্যের মাধ্যমে জুলাইয়ের মানবিক ইতিহাস ডকুমেন্ট করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে — সেই লক্ষ্য থেকেই ডাকসুর এই উদ্যোগ বলে তিনি জানান।

