কথার আঘাতে আত্মহত্যার ঝুঁকি: বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি, প্রয়োজন সহনশীলতা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪৯ পিএম
কথার আঘাতে আত্মহত্যার ঝুঁকি: বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি, প্রয়োজন সহনশীলতা

কথা দিয়ে মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা অনেক সময় সহ্য করা যায় না। এমনকি অবাধ কথার আঘাতে কাউকে আত্মহত্যার মতো অপূরণীয় সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দেওয়া সম্ভব। এমন পরিণতি রোধে সমাজের সবাইকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক আলোচনায় তাঁরা এ কথা বলেন।

‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। এতে তরুণদের আত্মহত্যা রোধে নীরবতা ভেঙে খোলামেলা আলোচনার পাশাপাশি সামাজিক কলঙ্ক দূর করে ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান উপস্থিত বক্তারা। তাঁদের মতে, আত্মহত্যাকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ঠেকানো সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত পদক্ষেপে একে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। তবে যথাযথ পরিবেশ, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, সাপোর্ট সিস্টেম থাকা দরকার। এটা না থাকলে মানুষের সুইসাইডাল আইডিয়েশনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য সাপোর্ট ও সিস্টেমের অভাবের এটা ঘটছে।’

আঁচল ফাউন্ডেশনের লিড সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সায়েদুল ইসলাম সাইদ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন আলী শাহ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের পরিচালক ডা. সাইফুন নাহার, লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা, ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জামির, বেসরকারি সংস্থা ডিগনিটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশরাফুল আনোয়ার রোজেন এবং হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক জিয়ানুর কবির।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার শুরু হতে হবে পরিবার থেকেই। শব্দ বেছে নেওয়ার সংস্কৃতি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে পারলে তরুণ প্রজন্মকে আত্মহত্যার ঝুঁকি থেকে অনেকটাই দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...