উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো রুটে ৭৩০ ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড, ঝুঁকিতে ২৭টি
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল সংযোগে কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় এসেছে উদ্বেগজনক সংখ্যা। সডক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এই রুটে ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাডে ত্রুটি পাওয়া গেলেও তার মধ্যে কেবল ২৭টিকে ক্রিটিক্যাল বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর ১৪৭টির ত্রুটি মাইনর পর্যায়ের। এ ছাড়া ভিন্ন মাত্রায় ফাটল ধরেছে ৪৬টি পিয়ারে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন। কুমিল্লা-৯ আসনের এক সংসদ সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী মেট্রো রুটের ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বা ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ এবং ৪৬টি পিলারে ফাটল ধরার কথা সত্য কি না। তিনি সরকারের সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ ও যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের বিষয়েও জানতে চান।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামত কৌশল তৈরির জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২৯৭টি প্যাডে ত্রুটির প্রধান কারণ স্থাপনকালের ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। অডিট প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছে, যা তাৎক্ষণিক সুপারিশগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
নিরাপত্তা জোরদারে বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুতির সম্ভাবনা থাকা ১০টি পিয়ারে স্টিল ব্র্যাকেট বসানো হয়েছে এবং ২৭টি স্থানে প্যাডের বসে যাওয়ার মাত্রা মাপতে সেটেলমেন্ট মার্কার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। ক্রিটিক্যাল চিহ্নিত ২৭টি বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬। এ ছাড়া কাঠামোগত ফাটল পর্যবেক্ষণে ১০২টি স্থানে স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ বসানোর কাজ চলছে, যা ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

