গুমে যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড: সংসদে কণ্ঠভোটে পাস তিন বিল

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:০৫ এএম
গুমে যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড: সংসদে কণ্ঠভোটে পাস তিন বিল

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা বাড়ানো, গুমকে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধে পরিণত করা এবং সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের নিশ্চয়তা দেওয়া—এই তিন লক্ষ্যে প্রণীত বিলগুলো রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। অধিবেশনে ভোট পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তবে বিলগুলোর ঘোর বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল, যারা দিনটিকে ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ রহিত করবে ২০০৯ সালের পুরোনো আইন; উদ্দেশ্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গড়ে তোলা। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সঙ্গে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অন্যদিকে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ দিয়ে আজীবন ভোগদখলাংশের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে; ফলে সম্পত্তি হস্তান্তরকারী তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

সংসদে বিলগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা—’জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল’ তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আর ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অধিকারবিষয়ক বিলগুলো পাসের জন্য তোলা হলে বিরোধী দলের সদস্যরা হল ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের আগে দলের নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে দ্বিমুখী নীতির সুযোগ রাখা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণ কোনো ব্যক্তি অধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারে; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে জানাতে হবে এবং তাদের কাছে জবাব চাইতে হবে।

শফিকুর রহমান জানান, দুর্বল আইন পাসের অংশীদার না হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই তাঁরা আলোচনায় অংশ না নিয়ে ওয়াকআউট করেছেন। নতুন আইনগুলো কার্যকর হওয়ার পর গুমের বিচার প্রক্রিয়া, মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...