সম্পত্তি দানের পরও জীবদ্দশায় ভোগাধিকার পাবেন বাবা-মা: সংসদে বিল পাস
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট সংশোধনী বিল। এই আইন কার্যকর হলে সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও দাতা হিসেবে বাবা-মা নিজের জীবদ্দশা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। ভোটাভুটির আগেই প্রস্তাবিত আইনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল, যদিও সরকারি দল বাবা-মার সুরক্ষা নিশ্চিত করায় বিলটির সাধুবাদ জানিয়েছে।
বিলের বিধান অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে কিংবা উল্টো দিকে সন্তানরা বাবা-মাকে, এমনকি স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সম্পত্তি দান করলে দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার ধরে রাখতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতা মারা গেলে ভোগাধিকার বজায় থাকবে এবং পরবর্তীতে আইন মোতাবেক সম্পত্তিটি মৃত গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি, যা সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর প্রভাব পড়বে না, তৈরি হবে না কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি।
তবে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬-এর তীব্র বিরোধিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি উল্লেখ করে তিনি বিলটি পাস না করার জোরালো দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে অঙ্গীকার করেছিলেন, ৯৫ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন পাস হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেই বিলটি পাস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম — যাঁদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর জাকাত বিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন — মত দিয়েছেন, আজীবন ভোগদখলের শর্তে দানের এই ব্যবস্থা ইসলামী আইনের পরিপন্থি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্ধারিত মিরাসি বা উত্তরাধিকারের বিধান বাইপাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধ থাকলেও এই আইনের মাধ্যমে বয়স্ক বাবা-মার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সরকারি দলের সদস্যরা। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর আইনটি কার্যকর হলে সম্পত্তি দানের প্রথা ও পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় আসবে নতুন মাত্রা।

