প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপণ্য, কামরাঙ্গীরচরে জমে উঠেছে বিশেষ বাজার
ঘরে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভিড় করেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের হাজারো বাসিন্দা। আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসানো অস্থায়ী বাজারে বর্জ্য জমা দিয়ে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ফেরেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে দেওয়া ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন নগর গড়ায় নাগরিকদের যুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচিটির সূচনা করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এসময় বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে এলাকাবাসীর সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। তাঁর মূল্যায়নে, এ ধরনের আয়োজন মানুষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর মডেল। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে উঠলে জলাবদ্ধতা কমবে, সঙ্গে পরিবেশও থাকবে দূষণমুক্ত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, শিগগিরই গুলিস্তানে এই কার্যক্রমের জন্য স্থায়ী স্টল গড়ে তোলা হবে। ধাপে ধাপে কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হবে এ উদ্যোগ। এছাড়া এসটিএসের সুবিধাজনক জায়গায় পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বই সাজিয়ে ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর ভাবনাও রয়েছে। কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা ও দখলমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধে সচেতনতার ডাক দেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন জানান, প্রান্তিক মানুষদের শুধু সহায়তার প্রাপক না বানিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সঙ্গী হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল কৌশল। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকার আয় হয়েছে, যা ব্যবহার করে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো গেছে। আয়োজকরা প্রত্যাশা করছেন, কর্মসূচির সম্প্রসারণে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকাও সচল থাকবে।

