মিরপুরে মেট্রোর সুবিধা গ্রাস করছে পানির সংকট, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ
রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ও মেট্রোরেলের সুবাদে মিরপুর এলাকা বসবাসের জন্য আদর্শ হলেও, সেখানকার বাসিন্দারা এখন পানির সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মেট্রোরেল চালুর পর এই এলাকায় অতিরিক্ত বহুতল ভবন নির্মিত হওয়ায় পানির চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু সরবরাহ সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে পল্লবী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে পানি আসছে না অথবা চাপ এতই কম যে পাম্প দিয়েও তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
এই সংকট এখন শুধু আবাসিক ভবনেই সীমাবদ্ধ নেই; স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও মসজিদগুলোও চরম বিপাকে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানির অপ্রতুলতার কারণে অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে জার কিনতে হচ্ছে, যা তাদের মাসিক ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজীপাড়ার বাসিন্দা ও মতিঝিলে কর্মরত বেসরকারি চাকরিজীবী মোস্তাক আহমেদ জানান, মেট্রোরেল যদিও তার যাতায়াতের ভোগান্তি কমিয়েছে, তবে পানির এই তীব্র সংকট স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মিরপুরে নতুন নতুন ভবন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে পানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর ওপর সাভারের ভাকুর্তা পানি শোধনাগারে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ওয়াসার পুরনো নলকূপগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আগামীতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পানি সংকটের কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা উদ্বেগের কারণ।

