উত্তর ফটিকছড়ি সদর স্থাপনে নারায়ণহাট-দাঁতমারায় দাবি
চট্টগ্রামের নতুন অনুমোদন পাওয়া উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী ন্যায্য স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে দাবি উপেক্ষা করে সদর অন্যত্র স্থাপন করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সরকারের ১২১তম নিকার সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে উত্তর ফটিকছড়ির অনুমোদন উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবির স্বীকৃতি। এ জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বক্তারা জানান, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুরে উপজেলা সদর হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া এক লাখ ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রত্যাশা উপেক্ষা করা উচিত হবে না বলে জানিয়েছেন উত্তরাঞ্চলবাসী।

