দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ জনতায় হামলার শিকার বিদ্যুৎ কর্মী
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীকে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গত ২৪ জুন এই ঘটনা ঘটেছে। একইসাথে সাতক্ষীরা, জামালপুর ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামেও দিনরাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পরীক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থার কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে মাত্র ১৬ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এমনকি কোনো একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ পড়লেই জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সংকট দেখা দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটায় গ্রিডে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার ফলে গত দুই দিনে লোডশেডিং কমে এসেছে এবং বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে।

