ছেঁউড়িয়ার আখড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান, জব্দ দুই হাজার গাঁজার কলকে
ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের তিনদিনব্যাপী আয়োজনের প্রাক্কালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি এলাকায় বড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে লালন আখড়াবাড়ির মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে প্রায় দুই হাজার পিস গাঁজা সেবনের কলকে জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য দুই লক্ষাধিক টাকা। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের লাখো বাউল, সাধক ও লালনভক্তের সমাগম অপেক্ষা করছে।
পুলিশ জানায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া অভিযান বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় উৎসবকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রতিদিন অভিযান চলছে। জব্দ করা কলকেগুলো ধ্বংস করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মেলা ঘিরে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াও স্পষ্ট। ছেঁউড়িয়ার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে লালন মেলাকে অনেকে মাদকের আড্ডা মনে করেন। আলোচনা মঞ্চের আশপাশে সারারাত মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চললেও প্রশাসন তা পাহারা দেয়, যা তার ভাষায় অত্যন্ত লজ্জাজনক। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান বলেন, তিরোধান দিবসে সারাদেশ থেকে নানা বয়সের অসংখ্য ভক্ত এসে উন্মুক্ত মঞ্চের চারপাশে দল বেঁধে মাদক সেবন করেন, অথচ উপস্থিত থাকেন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও। কেউ বাধা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক ও প্রকৃত বাউল সাধকরা। প্রায় ৩০ বছর ধরে আখড়াবাড়িতে আসা চুয়াডাঙ্গার শান্ত ফকির জানান, গাঁজার সঙ্গে লালন সাঁইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রকৃত সাধুভক্তরা কখনো মাদকের দিকে যান না। তিনিও চান মাদকমুক্ত অনুষ্ঠান।
লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, মাদকমুক্ত লালন উৎসব নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। উৎসব চলাকালীন মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনের আশা।

