জুলাই হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির বাবাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে হত্যার মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির বাবা ও মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলো বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল ওহিদ গত ১৩ অক্টোবর সাথীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। এরপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয় এবং ওইদিন সাথীকে আদালতে হাজির করা হলে দুই পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. কামরুজ্জামান স্বপন। তিনি আদালতে জানান, আন্দোলন চলাকালে নাসির উদ্দিন সাথী নিজের টেলিভিশন চ্যানেলে আন্দোলনের সংবাদ প্রচার না করে অন্য বিষয় তুলে ধরেছিলেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
অন্যদিকে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া তার পক্ষে শুনানি করেন। তার ভাষ্য, গত বছরের আগস্ট থেকে সাথী কারাগারে বন্দি রয়েছেন; এক বছরের বেশি সময় ধরে হেফাজতে থাকলেও এতদিন এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রয়োজন হয়নি। এছাড়া তিনি অসুস্থ এবং আওয়ামী লীগে তার কোনো পদ-পদবি নেই বলেও আদালতের সামনে দাবি করেন তিনি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনে অংশ নেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ওই দিন দুপুরের দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আইনজীবী সোহরাব হোসেন রুবেল জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

