ঘোড়ায় চড়ে মায়ের আগমন, শুক্রবার থেকে শুরু শারদীয় দুর্গাপূজা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫৫ এএম
ঘোড়ায় চড়ে মায়ের আগমন, শুক্রবার থেকে শুরু শারদীয় দুর্গাপূজা

প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস ও বাংলা পঞ্জিকার ইঙ্গিত অনুযায়ী, সৃষ্টিজগতের শান্তি ও মঙ্গলের তরে এবার দেবী দুর্গা বাহন ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন; আর পূজা শেষে তিনি নৌকায় আরোহণ করে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করবেন। উৎসবের প্রথম দিন মহাষষ্ঠীতে ঘটবে দেবীর বোধন বা জাগরণ। পূজার প্রাক্কালে প্রতিমা শিল্পী ও কারিগররা এখনও শেষ ছোঁয়া দিতে দিনরাত এক করেছেন।

পঞ্জিকার হিসাবে শনি ও রোববার—এই দুদিন ধরে চলবে মহাসপ্তমী তিথি, তাই পূজার মূল আয়োজন শুরু হবে শনিবার থেকে। সপ্তমীর দিনে দেবীর নানা রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে গঠিত নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পূজা করা হবে। এরপর সোমবারে আসবে মহাঅষ্টমী, যার বিশেষ আকর্ষণ অষ্টমী-নবমী তিথির মিলনক্ষণে পালিত সন্ধিপূজা। মঙ্গলবার মহানবমীতে সম্পন্ন হবে পূজার শেষ ধাপের প্রধান অনুষ্ঠান এবং দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত হবে ভোগ। অবশেষে উৎসবের শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা জানাবেন মায়ের বিদায়।

দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবার সরকার নির্বাহী আদেশ জারি করে পূজার ছুটি বাড়িয়ে তিনদিন করেছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকবে সরকারি কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার; সারা দেশে পূজা হচ্ছে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অসুররাজ মহিষাসুর বধের কথা মনে করিয়ে দেয় এই দুর্গোৎসব, যা অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। পুরাণমতে, বরলাভ করা মহিষাসুরের আতঙ্কে দেবতারা নিজেদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন দেবী দুর্গাকে, যিনি যুদ্ধে অসুররাজকে পরাজিত ও বধ করেন। গত ১০ অক্টোবর নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া পালনের মাধ্যমে এসেছিল দেবীর আগমনবার্তা। ধর্মীয় আয়োজন হলেও বাংলাদেশে এ উৎসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ; যা সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...