রাজস্ব ঘাটতিতে ব্যাংকের দরজায় সরকার: তিন মাসে ধার ২৪ হাজার কোটি টাকা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫:৩৫ এএম
রাজস্ব ঘাটতিতে ব্যাংকের দরজায় সরকার: তিন মাসে ধার ২৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের শুরুর তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ধার করেছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ নয়, বরং ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার — অর্থাৎ বিপরীতচিত্রই দেখা যাচ্ছে এবার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা, আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ তিন মাসেই শেষ হয়ে গেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি পৌঁছেছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকায়, যা জুন শেষে ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকায়, যা জুন শেষে ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারি ঋণের মোট স্থিতি ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ের অনিশ্চয়তাই মূলত সরকারকে ব্যাংকঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উৎপাদন ও ব্যবসা থমকে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা কম হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যের ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসায় সরকারকে ঋণ দেওয়ায় আপাতত বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে সরকারি ঋণের সুদহার কমে যাওয়ায় ব্যাংকের আয় ও মুনাফায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সুদ আমানতের সুদহারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে গতি না আসলে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সুযোগ আরও সংকুচিত করবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...