ঢাবিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল জিডিডিএফ, ঘোষিত হলো নতুন কমিটি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬:০৮ পিএম
ঢাবিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল জিডিডিএফ, ঘোষিত হলো নতুন কমিটি

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার লক্ষ্যে কাজ করা জাতীয় নেটওয়ার্ক গ্লোবাল ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (জিডিডিএফ)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ‘বাংলাদেশ আইন সমিতি’ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ফোরামের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির পাশাপাশি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিও উঠে আসে।

জিডিডিএফ দেশের আটটি বিভাগের মোট ২৬০টি তৃণমূল নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ জাতীয় নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাও রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই এই ফোরামের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের নবনিযুক্ত সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, জিডিডিএফ-এর এই যাত্রা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সব সদস্য সংগঠনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে এটিকে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকর জাতীয় নেটওয়ার্কে রূপ দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রশীব আহাম্মেদ হাওলাদার জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের যাত্রায় শুরু হলো নতুন অধ্যায় এবং তাঁরা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁদের প্রস্তুত ছিল প্রায় ৩৬ হাজার প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষকের তালিকা, তবে অর্থের ঘাটতির কারণে মাঠে নামানো সম্ভব হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার জন।

কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ পারভেজ রেজা সংগঠনের বাজেট ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যয়বহুল কিন্তু অপরিহার্য কাজ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও স্বীকৃতি জরুরি। সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তাঁদের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রধান দাবি উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে — স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য অন্তত তিন দিনের থাকা, যাতায়াত ও খাওয়ার আর্থিক বরাদ্দ; পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নির্বাচন কমিশনের সহ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি; দক্ষ পর্যবেক্ষণ দল গঠনে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ; আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ ভিজিটের সুযোগ সৃষ্টি; এবং ভোটার দিবসসহ কমিশনের সব কার্যক্রমে নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। নতুন কমিটি আশা করছে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...