ডেঙ্গুমুক্ত চট্টগ্রামে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার ডাক মেয়র শাহাদাতের
চট্টগ্রাম নগরীকে ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষায় শুধু মশার ওষুধ ছিটানোর ওপর ভরসা করলে চলবে না; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। এমন আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাসস্থান ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মেয়র বলেন, ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতার চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নেই। জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে, তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র কিংবা পরিত্যক্ত টায়ারে জমা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি।
মশক নিধন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আনতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো সময়ের দাবি বলে জানান তিনি। সিটি করপোরেশনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে হবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার বংশবিস্তার রোধে উদ্যোগী হতে হবে। নিজের ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও সচেতন করার পরামর্শ দেন মেয়র। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালালেও এর সুফল পেতে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান ডা. শাহাদাত হোসেন। স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন বলে তাঁর প্রত্যাশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্যসচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক ও নাসরিন আক্তার। কর্মসূচিতে বক্তারা সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।

