উপাচার্যকে জিম্মি করে জোরপূর্বক সই: ব্যাখ্যা চাইছে জামায়াত
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে দফতরে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ তোলেন।
বিরোধীদলীয় নেতার ভাষ্য, মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় উপাচার্যের ব্যক্তিগত পিএস নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উপাচার্যের কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে মানববন্ধন করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়, দেওয়া হয় স্লোগান এবং চাওয়া হয় তাঁর পদত্যাগ।
অধ্যাপক জাওয়াদুল হকের বক্তব্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির জানান, এর আগেও কয়েকবার এমন বিশৃঙ্খল আচরণ ও হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়েছে উপাচার্যকে। পরবর্তীতে তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই ভীতিকর কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান বিভিন্ন পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের সিপিইউ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য, যা জামায়াত নেতার আকলে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্যখাতে আগেও এমন নানা ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান লেখেন, রাজধানীতে হাসপাতাল ভাঙচুর, মেডিকেল কলেজ অন্যায়ভাবে বন্ধ এবং চিকিৎসাকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার অবৈধ দখলদারির উদ্দেশে ভেঙে চুরমার ও লুণ্ঠন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে যে এসব মব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হালুয়া-রুটির ভাগ-বাটোয়ারার জন্যই করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বেপরোয়া এসব কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যখাতকে আরও ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেবে।

