ডিমান্ড চার্জের শঙ্কায় মিটার বিরোধিতা, থমকে গেল সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট মিটার

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৫ এএম
ডিমান্ড চার্জের শঙ্কায় মিটার বিরোধিতা, থমকে গেল সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট মিটার

ডিমান্ড চার্জ ও ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুৎবিলের আশঙ্কা দেখিয়ে প্রিপেইড মিটার গ্রহণে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। বিভিন্ন এলাকায় মিটার বসানোর কাজে তারা প্রত্যক্ষভাবে বাধা দিচ্ছেন। এতে সরকারের সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

গ্রাহকদের ক্ষোভের পেছনে প্রধান কারণ ডিমান্ড চার্জ। প্রিপেইড সংযোগে আবাসিক গ্রাহকদের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ৪২ টাকা হারে ডিমান্ড চার্জ এবং নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট কাটা হয়। অর্থাৎ দুই কিলোওয়াট লোডের সংযোগে প্রতি মাসে ৮৪ টাকা কর্তন হয়। তবে এই মিটারে নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না, আর রিচার্জ করা এনার্জির ওপর প্রণোদনা হিসেবে সরকার ০.৫ শতাংশ রিবেটও দিচ্ছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বলছে, মিটার ঘিরে ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার চলছে, এমনকি মসজিদেও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’ ও ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র মতো ব্যানারে একটি অংশ গত ২২ জুলাই ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর (দক্ষিণ) দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে প্রিপেইড মিটারের বিরোধিতা করে। এতে ওই অঞ্চলে মিটার স্থাপনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ৮৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ পঞ্চাশ হাজার স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন (বিশেষ সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। কিন্তু প্রায় সব এলাকায় গ্রাহকদের প্রতিরোধের মুখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ডিপিডিসি।

আগামী চার মাসে অবশিষ্ট সাড়ে তিন লাখ মিটার স্থাপন করা অত্যন্ত কঠিন মর্মে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রেস রিলিজ প্রকাশ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে ভিডিও আপলোড এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে ডিপিডিসি; তবু মিটার বিরোধী প্রচারণা থামছে না, যা পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...