চাকরির লোভ দেখিয়ে শ্রমিক শোষণ, মাল্টায় বাংলাদেশিসহ ৫ জন কারাগারে
ইউরোপে যেতে চাওয়া এশিয়া ও আফ্রিকার অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার মাল্টা। কিন্তু এই যাত্রার সুযোগই কাজে লাগাচ্ছেন মানবপাচার ও অর্থ পাচারে জড়িত চক্র। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানোর অভিযোগে এবার এক বাংলাদেশিসহ পাঁচজনকে জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে মাল্টার আদালত।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাবিগেইল ক্রিটিয়েনের আদালতে হাজির করা হয় ৪০ বছর বয়সী নাজমুল ইশতিয়াককে। মাল্টার মেলিয়েহা এলাকার এই ব্যক্তি বর্তমানে বন্ধ থাকা পিংক গার্লিক রেস্তোরাঁর মালিক। আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। জামিনের আবেদন করলেও সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দেখিয়ে তা খারিজ করেন আদালত, ফলে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।
পুলিশের তদন্তের সূত্রপাত হয় এক বাংলাদেশির অভিযোগের মধ্য দিয়ে। তিনি জানান, বৈধ কাজের সুযোগের কথা বলে নাজমুল ইশতিয়াক তাকে মাল্টায় নিয়ে আসেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর তাকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই রেস্তোরাঁয় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিষয়টি গোপন রাখতে তার স্বাক্ষর করানো হয় এমন কিছু কাগজে, যেখানে উল্লেখ ছিল তিন মাস বেতনছাড়া ছুটিতে থাকতে সম্মত হয়েছেন তিনি।
এ অভিযোগের তদন্তে আরও চারজনকে শনাক্ত করে পুলিশ, যারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তদন্তসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে শ্রমিকদের মাল্টা থেকে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হতো। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর ইশতিয়াককে রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কথা বলায় তাকে হাসপাতালে রাখা হয় এবং ছাড়পত্র পাওয়ার পর সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে জানায়, মুক্ত থাকলে ইশতিয়াক সাক্ষীদের ওপর প্রভাব খাটাতে বা হুমকি দিতে পারেন। তদন্ত এখনো চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ধারণা, আরও কয়েকজন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী ইতিমধ্যেই মাল্টা ছেড়ে গেছেন।

