ফার্নেস ত্রুটিতে গলিত লোহায় দগ্ধ: মিরসরাইয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের প্রাণহানি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬:০২ এএম
ফার্নেস ত্রুটিতে গলিত লোহায় দগ্ধ: মিরসরাইয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের প্রাণহানি

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফার্মিক স্টিল লিমিটেড কারখানায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর কারখানার ফার্নেসে ত্রুটি দেখা দিলে গলিত লোহা ছিটকে পড়ে চার কর্মী মারাত্মকভাবে পোড়েন। চিকিৎসার মাঝেই তাদের তিনজন শেষ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনাটি এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শোকে পরিণত হয়েছে। নিহতরা হলেন চীনের নাগরিক প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭)।

দুর্ঘটনার পর আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক হওয়ায় শরিফুল ইসলাম ও জেংলিং হংকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান শরিফুল ইসলাম। একই দিন রাত সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের মনির হোসেন। সর্বশেষ ২ অক্টোবর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সুমন হোসেন।

ক্ষতিপূরণ ঘিরে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় নিহত শরিফুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফার্মিক স্টিলের চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। দোভাষীর মাধ্যমে পরিচালিত আলোচনায় পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। নিহতের বাবা মো. সেলিম বলেন, ছেলের দুটি ছোট সন্তান আছে; আমরা অতি সাধারণ মানুষ, চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে জেতা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নিহতের চাচা মনির হোসেন জানান, পরিবার মামলা চায় না। তবে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানিয়েছেন, পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে; এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে।

উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চীনা প্রকৌশলীকে দেখতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি রোগীর স্বজনদের আশ্বস্ত করে জানান, প্রকৌশলীকে সেখানেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনায় দগ্ধ আরেক শ্রমিক জুয়েল (৩৬) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তদন্তের দাবি তোলা হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...