লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিল অন্যজন, ভাইভায় এসে ধরা পড়ল যুবক
পটুয়াখালী জেলা রাজস্ব প্রশাসনের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে জহিরুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন অন্য এক ব্যক্তি, আর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন জহিরুল নিজে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভাইভা দেওয়ার সময় তিনি ধরা পড়েন। জানা গেছে, ২০তম গ্রেডের ১০টি শূন্য পদে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আটক জহিরুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল এলাকার আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে। ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার পর তার ব্যবহার-ভাষা ও জ্ঞানের মধ্যে যে দুর্বলতা দেখা যায়, তা লিখিত পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মেলে না বলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। বিশেষ করে লিখিত খাতায় ব্যবহৃত হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভা বোর্ডে দেওয়া লেখার মধ্যে স্পষ্ট অমিল ধরা পড়ে। একই সঙ্গে বোর্ডের একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তরও দিতে পারেননি তিনি।
খাতার হাতের লেখা যাচাই-বাছাই করে অসঙ্গতি নিশ্চিত হওয়ার পর জহিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে লিখিত পরীক্ষায় অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর কথা স্বীকার করেন তিনি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগেই তাকে আটক করা হয়েছে।
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের জালিয়াতি মেধাবী প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ধরে। ঘটনাটি নিয়োগ পরীক্ষার তদারকি ও প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনার দাবি জোরালো করেছে। এদিকে আটক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

