নতুন সড়ক আর কাটা যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের ঘাটতিতে আবার ভেঙে নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় নতুন সড়ক না খুঁড়ে অন্যপথে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে।
ডিএসসিসির অধীনে ইনার সার্কুলার রিং রোড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দু-তিন বছরের চরম দুর্ভোগের পর এলাকাবাসীর সামনে দৃশ্যমান হয়েছে একটি নতুন রাস্তা। কিন্তু ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় ওয়াসা এই নতুন সড়ক খুঁড়ে প্রায় ছয় ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চাইছে। একাধিক বৈঠকে তাদের বিকল্প রুট নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, জনঅর্থের অপচয় ঘটিয়ে মানুষকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলার অনুমতি তিনি দিতে পারবেন না।
প্রকল্পের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, এক হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে চার দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সড়ক। এর চারটি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং চারটি লেন সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহূত হবে। এছাড়া থাকছে দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার, আটটি স্লুইস গেট, ছয়টি বাস-বে ও ছয়টি যাত্রী ছাউনি। পাশাপাশি নির্মাণ হচ্ছে দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, আর স্থানান্তরের কাজ চলছে প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি টাওয়ারের।
প্রশাসক জানান, প্রথম ধাপের কাজের ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস রাজধানীর মূল যানজটে না ঢুকে এই রিং রোড ব্যবহার করে সরাসরি উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। এতে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগসহ সমগ্র রাজধানীর যানজটে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাই উন্নয়নকাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন আবদুস সালাম।

