বিরোধীদলের ওয়াকআউটের মাঝেই সংসদে পাস মানবাধিকার ও গুম খাতের তিন বিল

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:৫৯ এএম
বিরোধীদলের ওয়াকআউটের মাঝেই সংসদে পাস মানবাধিকার ও গুম খাতের তিন বিল

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে এমন তিনটি বিল, যা মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করা, গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা এবং সম্পত্তির আজীবন ভোগদখলের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ খুলবে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলগুলো অনুমোদিত হয়। তবে পাসের প্রতিবাদে বিরোধীদল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে এবং দিনটিকে কালো দিন হিসেবে অভিহিত করে।

২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনের লক্ষ্যে পাস হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’। অন্যদিকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে কিংবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে, সঙ্গে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানারও বিধান রয়েছে।

তৃতীয়টি ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, যার মাধ্যমে আজীবন ভোগদখলাংশের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ফলে সম্পত্তি হস্তান্তরকারী জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশন বিল ও সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল উত্থাপন করেন, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পেশ করেন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল।

বিলগুলো পাসের জন্য তোলা হলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে দ্বিমুখী নীতির সুযোগ রাখা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, সাধারণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে জানাতে হবে এবং তাদের জবাব চাইতে হবে। দুর্বল আইন পাসের অংশীদার না হতেই আলোচনায় অংশ না নিয়ে তারা ওয়াকআউট করেন বলে জানান তিনি।

এই তিন আইন কার্যকর হওয়ার পর মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নতুন রূপ পাবে এবং গুমের ঘটনায় দণ্ডের কঠোরতা বাড়বে। তবে বিরোধীদলের আপত্তির পাশাপাশি আইনগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেই আলোচনা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...