বদলির তদবির করলেই ব্যবস্থা, ভূমি কর্মকর্তাদের জারি কঠোর নির্দেশ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম
বদলির তদবির করলেই ব্যবস্থা, ভূমি কর্মকর্তাদের জারি কঠোর নির্দেশ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনে সুপারিশ আদায় ও তদবিরের পথ বন্ধ করা হয়েছে। নতুন পরিপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে অভিযোগ নথিভুক্ত করে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়। সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের স্বাক্ষরে পরিপত্রটি দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের পদায়ন ও বদলি নির্ধারিত হয় প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ, দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং কর্মস্থলের অগ্রাধিকার বিবেচনায়। পদায়নের পর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং নাগরিকদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পদায়নের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নিয়ে সুপারিশ ও তদবিরে জড়িয়ে পড়ছেন। কোথাও কোথাও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও চলছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এমন কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা, পদায়ন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মর্যাদা, দায়িত্ব পালনের স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

তবে ব্যতিক্রম রয়েছে। কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও বিশেষ, অনিবার্য ও যথাযথভাবে প্রমাণযোগ্য কারণে বদলির প্রয়োজন হলে প্রচলিত বিধি মেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে, সরাসরি কিংবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কোনো সুপারিশ, তদবির বা প্রভাব বিস্তার গ্রহণযোগ্য হবে না। বিধিসম্মত আবেদন প্রশাসনিক প্রয়োজন ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিষ্পত্তি হবে। মন্ত্রণালয়ের আশা, এই নির্দেশনায় ভূমি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং জনসেবার মান আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...