ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি, বিভেদের সুযোগ নেই: মুক্তাদির

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:৩৮ এএম
ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি, বিভেদের সুযোগ নেই: মুক্তাদির

শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর স্বামীবাগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সম্প্রীতিই বাংলাদেশের আসল শক্তি এবং এ দেশের মানুষ বিভেদ ছড়ানোর কোনো সুযোগ কোনোদিন হাতে যেতে দেবে না।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মতে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা হলেও জনসাধারণের ঐক্য ও সম্পর্ক কখনো ভেঙে পড়েনি। স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময়েও এমন উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে ঠিকই, তবে তার সঙ্গে সাধারণ জনগণের কোনো যোগ নেই—দায়ী কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের আশায় বিভেদের পরিবেশ গড়তে চাওয়া স্বার্থান্বেষী কিছু মহল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সম্প্রীতির ভিত্তিতে। ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে এখানে বিদ্বেষের চেয়ে সহযোগিতা ও পাশে থাকার সংস্কৃতিই প্রাধান্য পায়। গত ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুজব চললেও প্রকৃত চিত্র অন্যরকম উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা ও গির্জার পরিবেশে সম্প্রীতি বজায় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য জাতীয় ঐক্যকে সর্বাগ্রে রাখার আহ্বান জানিয়ে মুক্তাদির বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে ভাগ করার রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা ও মতের বৈচিত্র্য পাশে রেখে সবাইকে দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করতে হবে। নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি তিনি সমালোচনা মেনে নেওয়ার মানসিকতার পাশাপাশি ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...