ধর্মীয় সম্প্রীতিই দেশের প্রাণশক্তি, বিভেদের জায়গা নেই: মুক্তাদির

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:০০ এএম
ধর্মীয় সম্প্রীতিই দেশের প্রাণশক্তি, বিভেদের জায়গা নেই: মুক্তাদির

শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর স্বামীবাগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে বসবাস, সেখানে বিভক্তির কোনো জায়গা নেই।

মন্ত্রীর ভাষ্য, পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার যে ঐতিহ্য বাংলাদেশের মানুষের মাঝে চিরদিন চলে আসছে, তা কোনো ষড়যন্ত্রই ধ্বংস করতে পারেনি। রাজনৈতিক লাভের আশায় নানা সময়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা হলেও সাধারণ নাগরিকদের ঐক্য ও বিশ্বাস অটুট থেকেছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়েও উত্তেজনার ঘটনা সামনে এলেও সেগুলোর সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনার পেছনে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যতিব্যস্ত একটি মহলের ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ দেশের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তিই হলো সহাবস্থান। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিই বাংলাদেশকে আলাদা করে তোলে। গত ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা গুজব রটলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা ও গির্জায় সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেরাই উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য জাতীয় ঐক্যকে সর্বাগ্রে জোরদার করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভাজনের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা বা মতের পার্থক্য ভুলে সবাইকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...