রূপপুরের ভালভ জটিলতা: গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পিছিয়ে যাচ্ছে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভের ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্ধারিত সময়সীমা টেনে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য স্বীকার করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সমস্যাটি আড়ালে রাখতে অস্বীকার করে মন্ত্রী জানান, ভালভটি কেন সচল হচ্ছে না তা পরীক্ষা করতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। তাঁর মতে, যেখানেই ত্রুটি সেখানেই সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে ইউনিট-২-এর ভালভ ইউনিট-১-এ প্রতিস্থাপন করা হবে, অথবা বিদ্যমান ভালভটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। সে সময় পরিকল্পনা ছিল, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। এরই মধ্যে ধাপে ধাপে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে ‘বি’ স্টেজ শেষ হলেও দুটি সেফটি ভালভে সমস্যা ধরা পড়ায় পরবর্তী ‘সি’ স্টেজে যাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে ব্যান্ডউইথ সংকট ও বেসরকারি সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়াম লাইসেন্স নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়া আলাদাভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কনসোর্টিয়াম গঠনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র লাইসেন্সধারী কোম্পানিগুলো মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলে কনসোর্টিয়াম করে সাবমেরিন কেবল নিয়ে এসেছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মনীতি বহির্ভূত। রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের তদন্ত শেষে ভালভ সমস্যার সমাধান হলে কবে নাগাদ গ্রিডে বিদ্যুৎ যাবে, সেই সময়সীমা পরিষ্কার হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

