মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে মৌলিক ঘাটতি: টিআইবির উদ্বেগ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪২ এএম
মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে মৌলিক ঘাটতি: টিআইবির উদ্বেগ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬-এ সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটি কিছু ইতিবাচক সংশোধনীর পরামর্শ দিলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে গেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে, বিশেষত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে, কমিশনের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্তের ক্ষমতা নিয়ে মৌলিক ঘাটতি রয়েই গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

টিআইবি জানিয়েছে, কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের অনুপস্থিতি এবং গুম ঠেকানোর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন দেশে বহুমাত্রিক নির্মম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে বিল দুটি চূড়ান্তভাবে পাসের আগে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অর্থবহ বিতর্কের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বাধ্যবাধকতা আনা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার হওয়া থেকে নিষেধ এবং সামরিক বাহিনীর বাইরের আটককেন্দ্র পরিদর্শনে পূর্বানুমোদনের শর্ত প্রত্যাহারের মতো সুপারিশগুলোকে ইতিবাচক মনে করেছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হবে না—এমন সুস্পষ্ট বিধান না রাখা, চাকরিস্থ সরকারি কর্মচারীর প্রেষণ, লিয়েন বা অবৈতনিক ছুটিতে কমিশনার হওয়ার সুযোগ, স্পিকার, দুই মন্ত্রী, সরকারি দলের সাংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বাছাই কমিটির গঠনে ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র প্রভাবের ঝুঁকি, মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা না থাকায় স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রত্যাশা অধরাই থাকছে। তাঁর ভাষায়, কমিশন গঠিত হবে ঠিক, কিন্তু তা স্বাধীন হওয়ার আশা দুরাশাই রয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও মনে করান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের কর্তৃত্ব কার্যত অভিযুক্তের হাতেই চলে যাচ্ছে। জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিটের নিয়মিত ও পূর্বঘোষণা ছাড়া পরিদর্শনযোগ্য স্থানের তালিকা থেকে সামরিক আটককেন্দ্র বাদ থাকাও উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে আইনি সহায়তা, মানবাধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের মতো কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলিও প্রস্তাবিত বিলে সংকুচিত হয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ধারা ৪-এ কেবল ভাষাগত পরিবর্তন এসেছে; স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহি বা ভুক্তভোগীর অধিকার নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটি কোনো মৌলিক সংশোধনীর সুপারিশ করেনি—এই সংশোধনীগুলোকে তিনি বর্ণনা করেন মোটামুটি কসমেটিক বলে। মানবাধিকার কমিশন বিলের ধারা ১৯ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন সরাসরি অনুসন্ধান না করে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছ থেকেই প্রতিবেদন চাইবে—এই মূল ব্যবস্থা বহাল থাকায় বিধানটি ২০০৯ সালের আইনের তুলনায়ও দুর্বল এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। গুম প্রতিরোধ বিলেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তাঁর আশঙ্কা, এই ঘাটতি দূর না হলে প্রত্যাশিত জবাবদিহি ও ভুক্তভোগীর প্রতিকার কোনোটিই নিশ্চিত হবে না।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...