ব্রডব্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগের ছাড়, বৈষম্যের শঙ্কা দেশীয় উদ্যোক্তাদের
টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য প্স্তাবিত নতুন খসড়া নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৬’-এর খসড়ায় মোবাইল অপারেটরে ৯০ শতাংশ এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা হিমশিম খাবেন এবং দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো বিদেশি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ শতাংশ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ স্থানীয় মালিকানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এছাড়া যৌথ অবকাঠামো বা শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে ৮০ শতাংশ, আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটিতে ৪৯ শতাংশ এবং স্যাটেলাইট সেবায় জাতীয় নিরাপত্তের শর্তে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই এই খাতের নীতিমালা সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থানা ও আইএসপি লাইসেন্স বিলুপ্ত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন ক্ষুদ্র ইন্টারনেট সেবাদাতারা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থও সমানভাবে দেখা প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা না থাকলেও খসড়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যেসব সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিক স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হলেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে তা সীমিত রাখা হয়েছে, যা এক ধরণের বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

