নেপাল-তিব্বতে বন্যায় তীর্থযাত্রীদের মৃত্যু ও কৈলাস-মানস সরোবরের ধর্মীয় গুরুত্ব

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪৬ পিএম
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় তীর্থযাত্রীদের মৃত্যু ও কৈলাস-মানস সরোবরের ধর্মীয় গুরুত্ব

নেপালের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬১৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যাদের অনেকেই ছিলেন তীর্থযাত্রী বা পর্যটক। আরও প্রায় ২,০০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই বন্যা দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা, যারা মূলত তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর দর্শনে নেপাল হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। প্রায় ৬,৪০০ মিটার বা ২১ হাজার ফুট উচ্চতার এই পবিত্র স্থানটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।

তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর বিশ্বের তীর্থযাত্রীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত মানস সরোবর এশিয়ার সর্বোচ্চ স্বাদু পানির হ্রদগুলোর একটি। এর আয়তন প্রায় ৪১২ বর্গকিলোমিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৬ মিটার। এই হ্রদে প্রায় দুই হাজার কোটি ঘনমিটার পানি রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, তীব্র ঠাণ্ডা, বৈরী আবহাওয়া এবং অক্সিজেন স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ এই পবিত্র স্থান দর্শনে আসেন।

ইউনেসকোর তথ্যমতে, এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার চারটি বড় নদী – সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র এবং কর্ণালীর উৎপত্তি হয়েছে। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা কৈলাসকে দেবতার আবাস বা আধ্যাত্মিক সাধনার পবিত্র ভূমি হিসেবে বিশ্বাস করেন এবং মানস সরোবরের পানিকে পবিত্র মনে করেন। ১৯৫০ সাল থেকে চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বতের এই অঞ্চলটি রাজনৈতিকভাবেও খুব সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আগস্ট মাসে হাইকিং বা পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় স্থান।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...