নম্বর জানতে চেয়েছিল শান, অনুত্তরিত রেখেই স্রোতে হারালো কিশোর
চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার জীববিজ্ঞানের শিক্ষক সুমাইয়া বেগম। অন্য যেকোনো দিনের মতোই শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিল ১৫ বছর বয়সী এই কিশোর। কিন্তু পতেঙ্গা সৈকতে সাগরে নামতেই স্রোতের তীব্র টানে তলিয়ে যায় সে। পুলিশ ও স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করলেও, ক্লাসরুমে তার খালি বেঞ্চটি শিক্ষকের চোখে জল এনেছে।
জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষক সুমাইয়া বেগম জানান, গত ১০ আগস্ট প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দেয়ার পরদিনই শান তার সামনে এসে জানতে চেয়েছিল, সে কত নম্বর পেয়েছে। সাধারণত নম্বর নিয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা না থাকলেও এবার শিক্ষকের প্রশংসায় খুশি হয়ে নিজের পরিশ্রমের স্বার্থকতা মেপে নিতে চেয়েছিল সে। শিক্ষক তাকে বলেছিলেন বাড়িতে পড়াশোনা করছে ভালো, তাই ফলাফলও ভালো হবে। এই কথা শুনেই নিজের অগ্রগতির পরিমাণ টের পেতে উদগ্রীব ছিল শান।
সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেয়া হলেও তার আগের দিন শনিবার সকালেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়। কোচিং সেন্টারের পরীক্ষা শেষে চার বন্ধুকে সাথে নিয়ে পতেঙ্গায় যায় সে। সাগরে স্নানের একপর্যায়ে স্রোতে ভেসে যায় শান। শিক্ষক সুমাইয়া বেগমের ডেস্কে এখনো অনাদরে পড়ে থাকে তার খাতা, যেখানে নম্বর লেখার অপেক্ষায় ছিল শান। কিন্তু এই ছাত্র আর ফিরে আসবে না জেনে আবেগে ভেঙে পড়েছেন তার প্রিয় শিক্ষক।

