কলাপাড়ার সাবেক ইউএনওকে খাস জমি কেলেঙ্কারিতে শাস্তি
সরকারি খাস জমির অব্যবস্থাপনা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার শাস্তি দিয়েছে সরকার। গত ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ঘটনার আদ্যোপান্ত হলো, ভূমিহীনদের মধ্যে দুই শতাংশ করে সরকারি খাস জমি বন্টনের উদ্দেশ্যে আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক সহকারী কমিশনার হিসেবে ১৯৫টি কবুলিয়তের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান এবং তা অনুমোদিত হয়। পরে নিবন্ধনের কাজে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই সার্ভেয়ার অধিকারের অপব্যবহার করে জেলা প্রশাশকের অনুমতি ছাড়াই ৪২টি ভুয়া বন্দোবস্ত কবুলিয়ত তৈরি করেন, যেখানে জমির পরিমাণ ০.০৩ থেকে ৩.০০ একর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়। আবু হাসনাত যথাযথ যাচাই না করেই এই ভুয়া কবুলিয়তগুলোতে স্বাক্ষর করেন।
এই অবহেলার কারণে মোট ৭১.৬৩ একর সরকারি খাস জমির ক্ষতি হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের জবাবে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন এবং ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্তের জন্য আলাদা কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত সীমার বাইরে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত, জমির পরিমাণে অসামঞ্জস্য এবং নথিতে কাটাছেঁড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই না করে স্বাক্ষর করা প্রমাণ করে যে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। ফলে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

