হাজার কোটি টাকার বকেয়া, শাহজালালে পরিণত হয়েছে ভাঙারির ডাকাত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার দৃশ্য এখন যেন কোনো ভাঙারির গোডাউনের। সেখানে অন্তত ১২টি বিমান বছরের পর বছর ধরে একই স্থানে পড়ে আছে, যার ডানার নিচে এখন আগাছা গজিয়েছে এবং গায়ে ধুলো-ময়লা ও মরিচার স্তর জমেছে। একসময় আকাশে রাজত্ব করা এসব উড়োজাহাজ এখন আর উড়ার উপযোগী নয়, বরং মূল্যবান জায়গা দখল করে বিমানবন্দরের সৌন্দর্যহানি ঘটাচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, এই পরিত্যক্ত বিমানগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি ও এভিয়েনার একটি করে রয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে এগুলো বিমানবন্দরের পার্কিং বে-তে পড়ে থাকায় দীর্ঘদিনের পার্কিং চার্জ ও সারচার্জ বাবদ বেবিচকের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়েছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের পাওনা আদায় বা বিমানগুলো সরানো কোনোটিই সম্ভব হয়নি কারণ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর মালিক ও পরিচালনা পর্ষদ এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
আগামীতে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইটের চাপ অনেক বাড়বে। কিন্তু কার্গো এলাকার একটি বড় অংশ এই পরিত্যক্ত বিমানের দখলে থাকায় নতুন করে সম্প্রসারণ কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিমানগুলো সরানোর জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যত পরিণত হয়েছে একটি স্ক্র্যাপইয়ার্ডে।

