বৃষ্টি শেষেও পুরান ঢাকার মিটফোর্ড-সোয়ারিঘাটে হাঁটুপানি
রাজধানীর বুকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি থেমে গেলেও পুরান ঢাকার দুর্ভোগের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। মিটফোর্ড, সোয়ারিঘাট, ইমামগঞ্জ ও চকবাজার এলাকার রাস্তঘাটে এখনও হাঁটুপানি জমে আছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। বৃষ্টি থামার পরও পানি না নামা ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ার কারণে যানজট ও চলাচলের প্রতিবন্ধকতা বিরাজ করছে।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এখানে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ সড়ক কাদায় পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় দোকানের সামনে বাঁশ ও ইট বসিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ফেলা ময়লা আবর্জনা ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
এই এলাকা রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র। ওষুধ, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও খাদ্যদ্রব্যের ব্যবসায় জড়িত হাজার হাজার মানুষ এই সংকটের সম্মুখীন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে মিটফোর্ড এলাকার ফল বিক্রেতা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, বৃষ্টির পর দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা আসতে চান না। মালামাল ওঠানামা করা কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক সময় ফল নষ্ট হওয়ারও ঝুঁকি তৈরি হয়।
দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকা ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সোয়ারিঘাট থেকে লালবাগ পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ স্থান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা নিয়মিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাধার সৃষ্টি করছে।

