কাগজে মডেল থানা, বাস্তবে চরম সংকট ও অবহেলা
পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু হওয়া পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (পিআরপি) আজ স্থবির। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা মডেল থানাগুলোর কার্যক্রম এখন শুধুমাত্র সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ। জনবল, আবাসন ও লজিস্টিক সংকটের কারণে এসব থানা এখন সাধারণ থানার মতোই হিমশিম খাচ্ছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), ডিএফআইডি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কমিউনিটি পুলিশিং, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার—এসব উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তার কিছুই দৃশ্যমান নয়। পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, মডেল থানার নাম থাকলেও সেখানে মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও সঠিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সদস্যদের থাকার উপযুক্ত স্থান ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে সেবা প্রদানে ব্যাঘাত ঘটছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্যাটাগরির ভিত্তিতে প্রায় ৮৩টি থানা মডেল থানা হিসেবে প্রকল্প করা হলেও সেগুলোর অবস্থা নাজুক। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন পাঁচটি মডেল থানা হলো রমনা, পল্টন, উত্তরা, মিরপুর এবং চকবাজার। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় পিআরপি প্রকল্পের আওতায় এসব থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে কাগজে-কলমের বাইরে এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন।

