সরকারি চাকরিজীবীদের নজর ১১ জুনের বাজেটে, পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা
সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এখন চোখ আগামী ১১ জুনের দিকে। এদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা। বিএনপি সরকারের অধীনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এবার দারিদ্র্য বিমোচন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্যখাতে ব্যয় হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ায়, যা নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের কর রাজস্ব ও জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য মোট অর্থের হিসাব করে তা দেখা হচ্ছে। একবারে পুরোটা বাস্তবায়ন কঠিন হলেও ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে নবম পে-স্কেল এখনই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হবে না।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক দাবি জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে পে-স্কেলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে না হলেও জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর করা উচিত। দাবি না মানা হলে সরকারি কর্মচারীরা স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

