গলাচিপায় সংরক্ষিত বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বন বিভাগের উদ্যোগে ঘোষিত সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে দেদারছে মাছ শিকার চলছে। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে গড়ে ওঠা একটি চক্র এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উপকূলীয় এই ম্যানগ্রোভ বন ও সেখানকার অনন্য জীববৈচিত্র্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বন বিভাগের উদ্যোগে মোট ১৫ হাজার ২৯০ একর বনভূমিকে ‘সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি এই বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন খালে বাঁধ ও নেটজাল টাঙিয়ে মাছ শিকারের মহোৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার চরকারফারমা এলাকার সংরক্ষিত বনের একটি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে বাকপ্রতিবন্ধী জসিম নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
আহত জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম জানান, জাফর ও মাহবুব নামের দুই ব্যক্তি বনের খাল ৪ লাখ টাকায় ‘বিট’ (ইজারা) নেওয়ার দাবি করে জসিমকে ওই খালে মাছ ধরতে বাধা দেন এবং তার ওপর হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত মাহবুব দাবি করেন, ‘জসিমের সঙ্গে আমাদের একটু ঝামেলা হয়েছিল। আমরা ফরেস্ট অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চরকারফারমা বনের দক্ষিণের আটটি খাল বিট নিয়েছি। এ ছাড়া আরও যেসব খাল রয়েছে, সেগুলোর ইজারা অন্যরাও নিয়েছেন।’
মাহবুব আরও বলেন, ‘আমরা যে খাল বিট নিয়েছি, সেই খালে জসিম মাছ ধরার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা হলেও তা মীমাংসা হয়ে গেছে।’
এদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। গলাচিপা উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত বনের কোনো খাল কাউকে বিট বা ইজারা দিইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের চিহ্নিত করে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত বনের প্রাকৃতিক খালে বাঁধ দেওয়া হলে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে ম্যানগ্রোভ বনের গাছপালা ও জলজ প্রাণীর প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

